Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Monday, July 10, 2017

ভালুকায় কে হবেন নৌকার মাঝি

ভালুকায় কে হবেন নৌকার মাঝি

আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন জোটের
প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরের বিরোধী দল বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং মনে করে মাঠে নেমেছে যোগ্য
প্রার্থীর সন্ধানে। কেবল যোগ্যপ্রার্থী নির্বাচনই নয়, তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার করার ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি’র
ক্ষমতার পালাবদলের গতিপ্রকৃতি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এনএসআই-জিডিএফআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজখবর
নিচ্ছে। পাশাপাশি দলীয় বিশস্ত নেতাকর্মী দিয়েও জরিপ করছে আওয়ামী লীগ। পক্ষান্তরে বিএনপিও তাদের জরিপ দলের মাধ্যমে খোঁজ
নিচ্ছে এলাকায় কে জনপ্রিয়। অতীত ও বর্তমানে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিল এবং দলের প্রতি যারা অনুগত, তাদের
বিষয়গুলো প্রাধান্য দিচ্ছে ব্যক্তি ইমেজ, স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, এলাকায় জনপ্রিয়তা, মাঠে কর্মকান্ড, জনসম্পৃক্ততা নানা দিক
বিবেচনায় রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ময়মনসিংহের ভালুকায় ও চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক নানা
কর্মকান্ড। কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠের নেতারাও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে মনোনয়ন দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতি
নিচ্ছেন। ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বর্তমান এমপি সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এম
আমান উল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী আফসার বাহিনীর প্রধান মেজর আফসারের ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবলীগ
সভাপতি ভালুকা মোঃ কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ গোলাম মোস্তফা, সাবেক এমপি ভাষা সৈনিক
মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা এম এ মতিনের কন্যা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি, ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা
ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম পিন্টু, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সহ-সভাপতি মোঃ আশরাফুল হক জজ, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক
মোঃ আসাদুজ্জামান বিপ্লব, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠাকালীন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কেবিএম আসমত এর ছেলে বঙ্গবন্ধু
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সহ-সম্পাদক এডভোকেট মোঃ
শফিকুল ইসলাম খান লিটন,, বিশিষ্ট শিল্পপতি মো: আঃ ওয়াহেদ, আর্ন্ত জাতীক উদ্ভিদ বিজ্ঞাণী কানাডা প্রবাসী শফিউল আযম খোকা,
আওয়ামী লীগ নেতা হাজি রফিকুল ইসলাম।

Monday, May 15, 2017

এত জামায়াত শিবির গেল কোথায়

এত জামায়াত শিবির গেল কোথায়

সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিগত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াত-শিবির ছিল দৃশ্যমান। ঝটিকা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাদের নাশকতামূলক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে তারা ছিল অগ্রভাগে। কিন্তু হঠাৎ ‘উধাও’ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এখন আর তাদের কোথাও দেখা যায় না। প্রকাশ্যে নেই রাজপথের কোনো কর্মসূচি। কমে গেছে ঝটিকা মিছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় প্রথম দিকে দু-একজন নেতার ফাঁসি কার্যকর হলে হরতালে নেতা-কর্মীদের মাঠে নামতে দেখা যায়। তবে পরবর্তী সময়ে হরতালগুলোতেও নেতা-কর্মীরা ছিলেন নিষ্ক্রিয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন, ‘এত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী গেল কোথায়!’
সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন নাশকতার মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এ সরকারের দুই মেয়াদে অন্তত ২০ হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। বড় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতাদের হাত ধরেই তারা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আবার নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ হয় কারাগারে, না হয় পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। জঙ্গিবাদ বা উগ্রপন্থায় জড়াচ্ছে একটি অংশ। একইভাবে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতেও জায়গা করে নিয়েছে ক্ষুদ্র একটি অংশ। ঝুঁকি এড়াতে একটি অংশ চলে গেছে দেশের বাইরে। আরেকটি অংশ আওয়ামী লীগ-বিএনপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি দলের নেতাদের ধরে শিবিরের একটি অংশ চাকরি নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ডেমোক্রেটিক লীগ নামে অংশ নিয়ে জামায়াত ২০টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৯১ সালে জামায়াত নামে দলটি সংসদে ১৮টি আসন পায়। এরপর ১৯৯৬ সালে তিনটি, ২০০১ সালে ১৬টি এবং ২০০৮ সালে দুটি আসন পায়। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, বিশেষ করে পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদেও জামায়াতের বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি জয়লাভ করেন। বছরখানেক আগেও জামায়াত-শিবির কর্মীদের রাজপথে দেখা গেছে। এখন প্রকাশ্যে দেখা মেলে না তাদের। এমনকি দলটির আমির, সেক্রেটারি জেনারেলের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের পরও সরব হয়নি সংগঠনটি। জামায়াত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা তাদের নতুন কৌশল। এ কারণেই আত্মগোপনে থেকে ‘সংবাদ বিজ্ঞপ্তি’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে দলীয় কার্যক্রম। এর মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। ফাঁসি হয়েছে দলের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মীর কাসেম আলীর। জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনের শুনানি চলছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান এবং এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলা। এরা দুজনই ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। ভেঙে পড়েছে দলটির চেইন অব কমান্ড। জেলের বাইরে থাকা নেতা-কর্মীরা লাপাত্তা। জানা যায়, ঢাকাসহ সারা দেশেই জামায়াত ও শিবিরের কার্যালয়গুলোতে তালা ঝুলছে। রাজধানীর বড় মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এখন সুনসান নীরবতা। কয়েক বছর ধরে সংগঠনটির কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি কার্যালয়ে। কার্যালয়ের সামনে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে কী কাজে আসবেন নেতারা? সাদা পোশাকের পুলিশ ঘোরাফেরা করে। কাউকে পেলেই ধরে সোজা কারাগারে পাঠিয়ে দেবে। তাই ভয়ে কেউ আসেন না। ’ এ ছাড়া জামায়াতের ‘শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন’ ও ‘চাষী কল্যাণ সমিতি’ নামে দুটি অঙ্গসংগঠন রয়েছে। এ দুটির অবস্থাও নাজুক। এ ছাড়া জামায়াতের আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থার অবস্থাও করুণ। এ দুটি সংগঠনের কার্যালয়েও ঝুলছে ঢাউস তালা। এটি অবশ্য জামায়াতের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমাদের সব অফিস বেআইনিভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকারকে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তালা খুলে দেওয়াসহ পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম আগের মতোই চালু করতে চাই। আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতিও রয়েছে। জামায়াতকে নির্বাচনের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয় না। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের জিরো টলারেন্স অবস্থানকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আর “জঙ্গিবাদ, জঙ্গিবাদ” বলে যারা অন্যের ওপর দোষ চাপায়, তারাই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতা। ’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, সর্বশেষ জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেমের ফাঁসির রায় কার্যকর করার সময় থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায় জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। ফাঁসির রায় কার্যকরের বিরুদ্ধে হরতাল আহ্বান করা হলেও মাঠে দেখা যায়নি তাদের কোনো তৎপরতা। অথচ এর আগে সরকারবিরোধী দেশব্যাপী সহিংস কর্মসূচিতে তারাই ছিলেন অগ্রভাগে। নাশকতার মামলায় আসামি হওয়ার কারণে শিবির ক্যাডারদের গ্রেফতারের জন্য খোঁজ করেও তাদের হদিশ পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ক্যাডারদের খোঁজে এখনো তৎপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সূত্রমতে, দেশে থাকা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এখন সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতাসহ নানাভাবে কৌশল করে এগোচ্ছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেও বড় অংশের নেতা-কর্মীরা টিকে আছেন ছদ্মবেশে। নিজেদের রক্ষার তাগিদেই নেতা-কর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। রংপুর, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাজশাহী, কক্সবাজারসহ প্রতিটি জেলা সদরে জামায়াত-শিবিরের নামিদামি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক জামায়াত-সংশ্লিষ্টরা। যৌথ মূলধনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারদলীয়দের আড়ালে আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। সেসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি দলের প্রভাবশালীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে জামায়াতে ইসলামীর প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন গত মেয়াদের মহাজোট সরকার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে কথা বলেছে। আর এখন সেই দলটিরই নেতা-কর্মীদের ‘সাদরে গ্রহণ’ আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ বহু নেতা-কর্মীকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে কুষ্টিয়ায়
জেলা জামায়াতের রোকন নওশের আলী দল বদল করেন। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর যুবলীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জামায়াত ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর পর থেকেই দেশে বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-বিএনপি নেতাদের দল বদলের হিড়িক পড়ে যায়। একপর্যায়ে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে না ভেড়াতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে নয়। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক যথেষ্ট আছে। ’ এ নির্দেশনা অমান্য করে জেলা-উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের নেতাদের দলে ভেড়ান কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি ও মন্ত্রীরা। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের এমপি মাওলানা আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী জামায়াত নেতা নূর আহমেদকে সোনাকানিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করেন। এর আগে পৌরসভা নির্বাচনের সময় জামায়াত নেতা ওসমান গনি চৌধুরী ও সাতকানিয়া পৌর বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমানকে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন এমপি নদভী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আফজাল হোসেন পিন্টু আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। নানা সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতেরই সহস্রাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সংবাদ সম্মেলন করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য আবদুস সালামের নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেন। রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে ফুল দিয়ে উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি, ভবানীগঞ্জ মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম শতাধিক সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাঙ্গগড্ডা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাসেমের নেতৃত্বে বেশ কিছু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। গাজীপুরের টঙ্গীতে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা শরীফ হোসাইনের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা সাব্বিরুল হক তালুকদার শামীমের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইসমাইল হোসাইন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম এ নাসির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাউদ্দিনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

Wednesday, April 19, 2017

রাডার দুর্নীতি: এরশাদের ভাগ্য জানা যাবে বুধবার

রাডার দুর্নীতি: এরশাদের ভাগ্য জানা যাবে বুধবার

দুদকের করা এই মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাজা হবে কি না- দুপুরে সেই সিদ্ধান্ত দেবেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।

মামলার বাদী ও বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৮ এপ্রিল তিনি রায়ের এ দিন ঠিক করে দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের শীর্ষ কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান ও মীর আহমেদ আলী সালাম এবং এরশাদের পক্ষে শামসুদ্দিন বাবুল, শেখ সিরাজুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন শুনানিতে অংশ নেন।

১৯৯২ সালে দায়ের করা এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের ৩৮ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নিম্ন আদালতে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে যায়। এ অবস্থায় গত বছর নভেম্বরে বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিতে করা আবেদন বিচারিক আদালতে খারিজ হলে উচ্চ আদালতে যায় দুদক।

এ বিষয়ে শুনানি করে হাই কোর্ট গত ২৪ নভেম্বর আদেশে বলে, যে সাক্ষীদের বক্তব্য শোনা হয়নি, তা শেষে করে ৩১ মার্চের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করতে হবে।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এ মামলার আরেক আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে দেয়।

দুদক ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও তা ধোপে টেকেনি। ফলে গত ২৮ মার্চ বিচারিক আদালতে ফের এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয় বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান দুদকের নিম্ন আদালতের অন্যতম কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম।

১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে।

ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির ‘অত্যাধুনিক’ রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ওয়েস্টিন হাউজের রাডার কিনে রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত শেষে ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ অগাস্ট এরশাদসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলেও ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত থাকে।

আইনি বাধা কাটলে মামলা হওয়ার ১৮ বছর পর ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট শুরু হয় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ। ২০১৪ সালের ১৫ মে এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত বক্তব্য দেন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ।

সেদিন অন্য দুই আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও সুলতান মাহমুদও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দেন। অন্য আসামি এ কে এম মুসা শুরু থেকেই পলাতক।

Sunday, June 12, 2016

সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযানকে বর্ণনা করেছেন ‘জনগণের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে’ সরকারের একটি ‘কৌশল’ হিসেবে।  “আজ এই সাঁড়াশি অভিযানের অজুহাত দিয়ে তারা আবারও বিরোধী দলের ওপর চড়াও হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি,” বলেছেন তিনি। দেশে একের পর এক জঙ্গি কায়দায় হত্যা-হামলার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে পুলিশ’ শিরোনামে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী এই অভিযান শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়ে চলবে সাত দিন।  গত এক বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যার পাশাপাশি বিদেশি, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু আক্রান্ত হওয়ার পর সম্প্রতি চট্টগ্রামে একই কায়দায় খুন হন এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। তারপরই পুলিশের এই অভিযানের যোষণা আসে।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতার দিকে ইঙ্গিত করে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে আসছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ওই অভিযোগ ‘অমূলক নয়’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেন, “একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমি হেড অফ দি গভার্নমেন্ট। আমার কাছে নিশ্চয়ই তথ্য আছে।”

সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

এর পাল্টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তার রাজনৈতিক মিত্ররাই এসব ঘটনায় জড়িত।

নির্বাচনী সংঘাতে আহত গাইবান্ধার বিএনপি নেতা আজিজুর রহমানকে দেখতে শুক্রবার সকালে আগারগাঁওয়ের পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে মির্জা ফখরুলও সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কথা বলেন।

গত কয়েক দিনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন পাঁচ জঙ্গিসহ নয়জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন, এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের কথা বলছে, ইতোমধ্যে ক্রসফায়ার বা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও বেড়ে গেছে।”

গত ২ জুন ইউনিয়ন পরিষদের শেষ ধাপের ভোটের দুদিন আগে গাইবান্ধায় গুলিতে আহত হন ফুলছড়ি উপজেলার ভেরেন্ডাবাড়ি ইউপিতে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুর রহমান। ভোটে তিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
জঙ্গি তৎপরতায় তৎপর ছাত্রদল-শিবির: কামরুল

জঙ্গি তৎপরতায় তৎপর ছাত্রদল-শিবির: কামরুল

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে জঙ্গিবিরোধী ‘সাঁড়াশি অভিযানের’ নামে সরকারবিরোধীদের ‘দমনের’ যে অভিযোগ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করেছেন- তাও নাকচ করে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছাত্রলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন কামরুল ইসলাম। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল বলেন, “বিএনপি আজকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। সরকার সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলছেন, এটা বিএনপির নেতাকর্মীদের হেনস্তা-হয়রানি করার জন্য; আমি বলি, না।

“আলমগীর সাহেব, সরকার সন্ত্রাসী ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য, সেই সন্ত্রাসীরা যদি আপনার দলের থাকে, সেই সন্ত্রাসী যদি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হয়- তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” রাজনৈতিক পরিচয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করলে সরকার কোনো ছাড় দেবে না- জানিয়ে তিনি বলেন, “বহু সহ্য করেছি। বহু ছাড় দেওয়া হয়েছে।”

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে শহরে ‘না পেরে’ গ্রাম-গঞ্জে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর অভিযোগ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল বলেন, “শহরে পারে না, এখন গ্রামে-গঞ্জে গেছে- সন্ত্রাস করা জন্য।

জঙ্গি তৎপরতায় তৎপর ছাত্রদল-শিবির: কামরুল


“আজকে গোপন তৎপরতা, গুপ্ত তৎপরতা চালাচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে, নিরীহ ধর্মযাজকদের হত্যা করছে।” ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের কাউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না- দাবি করে কামরুল ইসলাম বলেন, “বাটি চালান দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এরা আছে। ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সারা দেশে জঙ্গি তৎপরতা চালানোর জন্য তৎপর রয়েছে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের মামলা প্রায় ‘শেষ পথে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এদের ভবিষ্যৎ কী হবে- তারা জানে না। আজকে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশটাকে ধ্বংস করতে।”

বিএনপি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে অভিযোগ করে কামরুল ইসলাম বলেন, “যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের অতীত ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, তারা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আপনারা তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শিক্ষা বলেন, খাদ্য বলেন, কৃষি বলেন, বিদ্যুৎ বলেন- প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যেটা কল্পনাও করতে পারেনি বাংলাদেশের মানুষ।”

শেখ হাসিনা বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রেও সফল হয়েছেন মন্তব্য করে কামরুল ইসলাম বলেন, “যারা এই সফলতা সহ্য করতে পারে না, … তারাই বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

“এরা ষড়যন্ত্রের কোন পর্যায়ে চলে গেছে কল্পনাও করতে পারবেন না। বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে এই বিএনপি-জামায়ত গাটছাড়া বেঁধে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।”

এসময় শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ‘এসব সন্ত্রাসী ও ষড়যন্ত্রকারীর’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা।