Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Friday, April 17, 2020

পদ্মা কেন নদী? ব্রহ্মপুত্র কেন নদ?

পদ্মা কেন নদী? ব্রহ্মপুত্র কেন নদ?

বাংলা ভাষায় যেসব অহেতুক ও বেহুদা বিতর্ক জিইয়ে রাখা আছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নদী বনাম নদ বিতর্ক। জন্ম থেকেই প্রশ্নটা শুনে এসেছি, ঘাঁটাঘাঁটি করে উত্তর জানার চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করে মাঝারি সাইজের হালকা পিংক কালারের ঘোড়ার প্রমাণ সাইজের মেরুন কালারের একটা চৌকা ডিম পেয়েছি।



এক জায়গায় দেখেছি নামের মধ্যে মেয়ে-মেয়ে গন্ধ থাকলে সেটা নদী আর ছেলে-ছেলে গন্ধ থাকলে সেটা নদ। মেয়েলি নাম বলে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা নাকি নদী; নাম পুরুষালি বলে কপোতাক্ষ, ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, তুরাগ, বলেশ্বর নাকি নদ। কোনটা নদী, কোনটা নদ— লৈঙ্গিক গন্ধই যদি এর মাপকাঠি হয়; তা হলে মাথাভাঙ্গা, কালিজিরা, কচা নামধারীরা কী— নদী, না নদ? বরিশাল বিভাগে ‘হিজলা’ নামে যেটি প্রবাহিত আছে, সেটিই বা কী?

কোথাও-কোথাও পড়েছি— যেগুলোর শাখা আছে, অর্থাৎ বাচ্চাকাচ্চা আছে; সেগুলো নদী আর যেগুলোর শাখা বা বাচ্চাকাচ্চা নেই, সেগুলো নদ। খুঁজে দেখলাম— যে ব্রহ্মপুত্রকে নদ বলা হয়; দিবাং, লোহিত, ধানসিঁড়ি, কামেং, রায়ডাক, জলঢাকা, তিস্তা নামে সেই ব্রহ্মপুত্রের সাতটা শাখা নদী আছে (আরো বেশি থেকে থাকতে পারে); সাত-সাতটা বাচ্চা থাকার পরও ব্রহ্মপুত্র নদই থেকে গেল, নদী আর হলো না!

নাম পুরুষালি হওয়ার কারণে ব্রহ্মপুত্রের হওয়ার কথা নদ, আবার শাখা থাকার কারণে হওয়ার কথা নদী। কারো মধ্যে উভয় লিঙ্গের বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান থাকলে তাকে আমরা তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া বলে থাকি। ব্যাকরণপণ্ডিতদের পণ্ডিতি মোতাবেক ব্রহ্মপুত্র কি তবে হিজড়া কিছু? ব্রহ্মপুত্র কি ছাইয়া-ছাইয়া? চাইলে আরেক বিতর্কও তোলা যায়— সাত বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র কি গর্ভবতী হয়েছিল, নাকি গর্ভবান?

আমি মনে করি— নদী আর নদ নিয়ে মাথা ঘামানো নিতান্তই নিষ্প্রয়োজন। প্রাণীদের লিঙ্গ থাকে, জল বা জলাশয়ের লিঙ্গ নেই। লিঙ্গ নিয়ে টানাটানি না করে সবগুলোকে নদী বললেই লেঠা চুকে যায়। হয়তো কোনো এক কবি কোনো এক অলস দুপুরে কোনো একটি ছড়া লিখতে গিয়ে বদ বা মদ-এর সাথে অন্ত্যমিল রাখতে গিয়ে ছন্দ মেলাতে না পেরে নদীকে নদ লিখে ফেলেছিলেন। হয়তো তিনি লিখেছিলেন— আজকে আমি মাতাল হব, আমায় দে রে মদ; মদ্য পিয়ে পি-এর তোড়ে বইয়ে দেবো নদ! তার সেই দুপুরের সেই আলস্যের খেসারত এখনও পর্যন্ত দেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।
টাইটানিক সম্পর্কে ১৬টি তথ্য, যা অবাক করবে আপনাদের

টাইটানিক সম্পর্কে ১৬টি তথ্য, যা অবাক করবে আপনাদের

টাইটানিক, এক রূপকথার নাম যেন। কত মিথই তো ছড়িয়ে এই জাহাজটিকে ঘিরে! সেগুলি অনেকেরই জানা। এ সবের বাইরে এমন অনেক ছোটখাটো তথ্য আছে, যেগুলি শুনলে যারপরনাই অবাক হতে হয়।


১. যে দিন হিমশৈলে টাইটানিক ধাক্কা খেয়েছিল, সেই দিনই লাইফবোটের একটি মহড়া ছিল টাইটানিকে। ক্যাপ্টেন সেটি বাতিল করেন।

২. সিনেমায় মনে আছে, কীভাবে মিউজিশিয়ানরা ক্রমাগত বেহালা বাজিয়ে গিয়েছিলেন জাহাজ ডোবার সময়ে? বাস্তবেও তেমনটাই ঘটেছিল।

৩. হারশে চকোলেট সংস্থার মালিক, তৎকালীন ব্রিটিশ ধনীদের অন্যতম, মিল্টন হারশের কাছে টাইটানিকের টিকিট ছিল। কিন্তু ব্যস্ততার জন্য তিনি তা বাতিল করেন।

৪. এক জাপানি যাত্রী প্রাণে বেঁচেছিলেন। কোনওক্রমে তীরে পৌঁছনোর পরে তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যান। সহযাত্রীদের কথা ভাবেননি বলে অভিযোগ।

৫. যে চারটি স্মোকস্ট্যাক (ধোঁয়া বেরনোর বিশাল চিমনি) ছিল জাহাজটির, তার তিনটি কাজ করত। একটি ছিল স্রেফ জাহাজ সাজানোর জন্য।

৬. সংবাদপত্রে প্রথম দিন খবর প্রকাশিত হয়েছিল, ‘‘টাইটানিক ডুবেছে। তবে কেউ মারা যাননি।’’

৭. দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পরে নিউ ইয়র্ক টাইমস ৭৫ পাতা জুড়ে শুধু টাইটানিকেরই খবর ছেপেছিল।

৮. ‘ক্যালিফোর্নিয়ান’ নামে একটি জাহাজ টাইটানিকের খুব কাছেই ছিল। কিন্তু তার ওয়্যারলেস অপারেটর ছিলেন গভীর ঘুমে। টাইটানিক থেকে আকাশে ছোড়া সেই বিপদসংকেত তিনি দেখতেই পাননি।

৯. টাইটানিকের ‘চিফ বেকার’, অর্থাৎ বেকারির দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি দু’ঘণ্টা ওই ঠান্ডা জলে থাকার পরেও বেঁচে গিয়েছিলেন। কারণ? অতিরিক্ত মদ্যপানে তাঁর শরীর ছিল গরম।

১০. টাইটানিক-ই একমাত্র জাহাজ, যা হিমশৈলে ধাক্কা লেগে ডুবেছে।

১১. বেশিরভাগ লাইফবোটেই জায়গা ফাঁকা ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সেগুলিতে লোক নেওয়া হয়নি।

১২. হিমশৈলের খবর ক্যাপ্টেনের কাছে যখন এসেছিল, তার মাত্র ৩০ সেকেন্ড আগে এলেই টাইটানিক-কে বাঁচানো যেত।

১৩. ১,৫১৪ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। উদ্ধার করা হয়েছিল মাত্র ৩৩৬টি দেহ।

১৪. যে হিমশৈলে ধাক্কা লেগে টাইটানিক ডুবেছিল, সেটির গঠন হয়েছিল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ থেকে।

১৫. সবথেকে দামি টিকিটের মূল্য কত ছিল জানেন? সেই সময়ে ৪,৩৫০ মার্কিন ডলার।

১৬. তৃতীয় শ্রেণিতে ৭০০-র বেশি যাত্রী ছিলেন। তাঁদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র দু’টি বাথটাব।

সূত্রঃ এবেলা
বাসর রাতে বিড়াল মারা বলতে কি বুঝায় ?

বাসর রাতে বিড়াল মারা বলতে কি বুঝায় ?

কিভাবে এলো বাসর রাতে বিড়াল মারা, বাসর রাতে বিড়াল মারা বলতে কি বুঝায় ?


চলুন, আগে বিড়াল মারার কাহিনীটা শুনা যাক। একদা বাগদাদের বাদশাহ এর ছিল দুইজন কন্যা। এই দুই রাজকন্যা ছাড়া তার ছিলনা কোন রাজপুত্র। রাজকন্যা দুজন ছিল বাদশা এর অনেক অনেক আদরের। সবসময় দুই রাজ কন্যার জন্যে দশ পনেরো জন দাসী প্রস্তুত থাকতো। কখন কোনো রাজকন্যার কি দরকার হবে আর তারা হুকুম পালন করবে। দুই রাজকন্যারই একটা করে বিড়াল ছিলো।

বিড়াল দুটো ছিলো তাদের সবসময় এর সাথী। তারা খেতে বসলে এমনকি ঘুমাতে গেলেও ঐ বিড়াল দুটো সাথে সাথে থাকত। তো দেখতে দেখতে দুই রাজকন্যাই একসময় বড় হয়ে গেলো। তারা বিবাহ উপযুগি হয়ে গেলো। তারপর বাদশাহ এর চিন্তা বাড়তে লাগল, কারন এই দুই রাজকন্যার জামাইদের উপরেই তার এই বিশাল রাজ্যের দায়িত্ত দিয়ে যেতে হবে। সুতারাং এমন যোগ্য দুজন ছেলে খুজে বের করতে হবে। যারা এই গুরু দায়িত্ব ভালো ভাবে পালন করতে পারবে।

সারা রাজ্যে অনেক খোজাখুজি করে এমন দুইভাই পাওয়া গেলো যাদের কাছে রাজকন্যাদের বিয়ে দেয়া যায় বলে বাদশাহ এর মনে হল। তারপর অনেক ধুমধাম করে বিয়ে হল দুই রাজকন্যার একসাথে।অতঃপর বাদশাহ দুই মেয়ে জামাইকে সমান ভাবে রাজ্যের দায়িত্য ভাগ করে দিলেন। এরপর দুই ভাই রাজ্য চালনা নিয়ে অনেক ব্যাস্ত হয়ে পরলো। দুইজনের অনেক দিন দেখা সাক্ষাত নেই। হঠাত করেই রাজ্যের একটা বড় অনুষ্ঠানে দুই ভাই এর দেখা হয়ে গেলো। তারপর দুইজনই আবেগে আপ্লুত হয়ে পরলো এতদিন পরে ভাইএর সাথে দেখা এই জন্যে।

তারপর অনেক কথায় কথায় ছোট ভাই জিজ্ঞাসা করলো তাদের বৌ মানে রাজকন্যাদের কথা। তখন বড় ভাই বলল হুম, বড় রাজকন্যা তাকে অনেক সমীহ করে চলে। তার কোন কাজই করা লাগে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। এইসব শুনে ছোটভাই বলল ছোট রাজকন্যা তার কোন যত্নই করে না। সবসময় রাগা রাগি করে এমনকি মাঝে মাঝে গায়েও হাত তুলে। তখন বড় ভাইকে জিজ্ঞাসা করল কিভাবে রাজকন্যাকে বশ করল? তখন বড় ভাই বলল, রাজকন্যার বিড়ালের কথা।ছোট ভাই বলল হ্যাঁ ওই বিড়ালকে তো আমার চাইতেও বেশি যত্নে রাখে। বড়ভাই বলল, হ্যাঁ, প্রথম দিন বাসর রাতে ঘরে ঢুকেই আমি একটা তরবারি দিয়ে ওই বিড়ালের ওপরে দিলাম এক কোপ। ব্যাস একবারে দুইভাগ।

এই ঘটনায় বড় রাজকন্যা ভাবলো আমি মনেহয় অনেক বড় কোন বীর, এরপর থেকেই সে আমাকে অনেক সমীহ করে চলে। তো এই কথা শুনে ছোটভাই মনে মনে ভাবলো ঠিক আছে আজকে বাড়ী ফিরেই বিড়ালের জীবন নাশ করা লাগবে। তারপরে আবার অনেকদিন পরে দুই ভাই এর দেখা। এবার ছোট ভাইএর শরীরে অনেক কাটা দাগ। বড়ভাই জিজ্ঞাসা করলো কি খবর কোন যুদ্ধে আহত হয়েছিলে নাকি?

ছোটভাই বলল, না ভাই তোমার ঘটনা শুনে আমি ওইদিন বাসায় গিয়ে তরবারি নিয়ে এক কোপে বিড়ালটাকে দুইভাগ করে দিলাম। কিন্তু আমার বেলায় ঘটনা উলটো হল।আমাকে এর শাস্তি সরূপ একমাস কারাবন্দি আর অত্যাচার ভোগ করা লাগলো। তখন বড়ভাই বলল, বিড়াল বাসর রাতেই মারতে হয়, পরে মারলে কোন লাভ নাই। প্রকৃতপক্ষে বাসর রাতে বিড়াল মেরে কিছু হয়না। এগুলো শুধুই গল্প কথা…. এর সাথে ইসলামের দূরতমও কোন সম্পর্ক নেই। এ ধরনের অহেতুক কুসংস্কার থেকে আমাদের বেঁচে থাকা উচিৎ। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমীন!
অ্যানাকোন্ডা সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য !

অ্যানাকোন্ডা সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য !

অ্যানাকোন্ডার শিকার ধরার পদ্ধতি অন্যান্য সাপের মত নয়। এটি তার শিকারকে ছোবল দেয় না(যদিও ছোবল দেয়ার জন্য যথেষ্ট বড় বড় দাঁত রয়েছে! এটি তার শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলে।এরপর আস্তে আস্তে পুরো শরীরটাই গিলে নেয়।



অ্যানাকোন্ডার মূলত চার প্রকারের প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়। ডার্ক স্পটেড অ্যানাকোন্ডা, হলুদ অ্যানাকোন্ডা, সবুজ অ্যানাকোন্ডা, বলিভিয়ান অ্যানাকোন্ডা।

সবুজ অ্যানাকোন্ডা (অ্যানাকোন্ডা সাপের প্রধান প্রজাতি) হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপ। এটি সর্বোচ্চ ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর ওজন হতে পারে ২২৭ কেজি পর্যন্ত।
একটি পূর্ণবয়স্ক ভেড়া/ছাগল/শুকর খাওয়ার পর একটি অ্যানাকোন্ডা প্রায় এক মাস না খেয়ে থাকতে পারে। এর মাঝে এর খাবারের প্রয়োজন পড়ে না।

যদি শিকার খুঁজে না পাওয়া যায় তবে একটি অ্যানাকোন্ডা বড় একটি শিকারের পর অন্যকিছু না খেয়েও প্রায় ১ বছর কাটিয়ে দিতে পারে।

অ্যানাকোন্ডা পানির নিচে একটানা ১০ মিনিট পর্যন্ত দম না নিয়ে থাকতে পারে! এরপর অক্সিজেনের প্রয়োজনে একে পানির উপরিভাগে চলে আসতে হয়।

মেয়ে অ্যানাকোন্ডা পুরুষ অ্যানাকোন্ডার চেয়ে সাইজে বড় হয়।

অন্যান্য সাপের সাথে অ্যানাকোন্ডার আরো একটি জায়গায় অমিল রয়েছে। অন্যান্য সাপ যেখানে ডিম পাড়ে(পাইথন, কোবরা, ইত্যাদি) সেখানে অ্যানাকোন্ডা সরাসরি বাচ্চা জন্ম দেয়! একটা মেয়ে অ্যানাকোন্ডা একসাথে ২৫-৩০টি বাচ্চা প্রসব করতে পারে।

একটি বাচ্চা অ্যানাকোন্ডা জন্মের সময়ই ২ ফুট লম্বা হয়ে থাকে এবং সাতার কাটার পারদর্শী হয় শুধু তাই নয়, এরা জন্মের সাথে সাথে শিকার ধরা শুরু করতে পারে।

► একটি অ্যানাকোন্ডা দিনে ২০ কেজি পর্যন্ত খাবার গিলতে(খেতে) পারে।

► অ্যানাকোন্ডা মানুষকে এড়িয়ে চলে। এমনকি মানুষের গাঁয়ের গন্ধ পেলেই তারা লুকিয়ে পড়ে! মানুষ তাদের চামড়া এবং দাঁতের দামের জন্য গভীর বনে ঢুঁকে অ্যানাকোন্ডা শিকার করে।

Wednesday, April 19, 2017

প্রাচীন পৃথিবীতে রুপচর্চার অদ্ভুত যত পদ্ধতি

প্রাচীন পৃথিবীতে রুপচর্চার অদ্ভুত যত পদ্ধতি

রুপচর্চার জন্য মানুষ যে কত কিছু করে তা আমাদের চারপাশে আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই। বিশেষ করে দৈনিক পত্রিকার নানা লেখা পড়ে কিংবা টিভি চ্যানেলগুলোতে এ সংক্রান্ত নানা অনুষ্ঠান দেখে আমাদের অনেকের মনে একটা প্রশ্নই কেবল ঘোরাফেরা করে- “এইগুলা মানুষ করে ক্যান?” মজার ব্যাপার হলো, আজ রুপচর্চার নানা পদ্ধতি দেখে আমাদের যাদের চোখ কপালে উঠছে, সেই আমরাই যদি অতীতের কিছু রুপচর্চার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে চোখ বোধহয় কোটর থেকেই বেরিয়ে আসবে!
কেন বললাম এমন কথা? উত্তরটুকু নাহয় নিচের পুরো লেখা জুড়েই খুঁজতে থাকুন।

মধ্যযুগের বড় কপাল

 

 

বিভিন্ন চিত্রকর্মে মধ্যযুগের মহিলাদের যেসব ছবি আমরা দেখি, তার সাথে আমাদের বর্তমান সমাজের মেয়েদের সাজসজ্জার বেশ বড় একটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতপক্ষে তখনকার সময়ে নিজের কপালকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বড় এবং কিছুটা বাঁকানো রুপে দেখানোই ছিলো সৌন্দর্যের পরিচায়ক। সেজন্য তাদের অনেকেই সামনের দিকের কিছু চুল কাটা কিংবা তুলে ফেলার মতো কাজটি করতো।

রঙ করা পা

 

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাইলনের সংকট দেখা দেয়ায় বাজারে প্যান্টিহসের যোগানও কমে যায়। কিন্তু সেটি পরলে পায়ে আসা তামাটে বর্ণের সৌন্দর্যের কথা ভুলতে পারে নি অনেকেই। এজন্য তখন বাজারে আসে ডজনখানেক রঙ যেগুলো পায়ে লাগালে দূর থেকে অনেকটা নাইলনের মতোই মনে হতো। LIFE ম্যাগাজিনের ১৯৪২ সালের এক সংখ্যাতেও এ সম্পর্কে বলা হয় যে, এভাবে রঙ করা পাগুলো আসল প্যান্টিহসের চেয়ে আলাদা করা ছিলো আসলেই দুঃসাধ্য।

চীনা নারীদের পদ্মের মতো পা

এখন যে প্রথাটির কথা বলতে যাচ্ছি তা আমাদের সবার চোখেই বেশ অমানবিক ঠেকবে। তবে এমন অমানবিক প্রথাই এককালে চীনে ছিলো বেশ জনপ্রিয়।
ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে এককালে চীনের অনেক নারীকেই তাদের পা যতটা শক্ত করে সম্ভব বাঁধতে উৎসাহিত করা হতো। এর লক্ষ্য ছিলো পায়ের পাতা যাতে কোনোভাবেই ৪ ইঞ্চির বেশি বড় না হয়! আর উদ্ভট এ প্রক্রিয়ার ফলে দুমড়ানো-মোচড়ানো যে পা পাওয়া যেত, তাকে তারা বলতো ‘পদ্মের মতো পা’!


দুঃখজনক ব্যাপার হলো, প্রাচীন চীনা সমাজ ব্যাবস্থায় বিকৃত এ পা-ই ছিলো পুরুষদের কাছে সর্বাপেক্ষা যৌনাবেদনময় অঙ্গ। স্ত্রীর সাথে মিলিত হবার আগে তারা অনেকক্ষণ ধরে কেবল তার সেই পায়েই হাত বুলিয়ে আদর করতো। কিং রাজবংশের সময়কালে একটি নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়েছিলো এ বিষয়টি নিয়ে। সেখানে নারীদের পদ্ম পায়ে আদর করার ৪৮টি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো!
নারী শরীরের সেই বিকৃত পা-কে যদি শুধু যৌনাবেদনময় অঙ্গ বলা হয়, তাহলে ভুল বলা হবে, বরং এর আগে ‘সবচেয়ে’ শব্দটিও যোগ করতে হবে। কারণ প্রাচীন চীনের যৌনতা বিষয়ক নানা বইয়ে নারীদের এমন ছবি দেখা গেছে যেখানে তারা সারা শরীর উন্মুক্ত রাখলেও ঢেকে রেখেছে তার সেই ‘পদ্মের মতো পা’। পায়ের বাঁধনগুলো নিয়ে তাদের এমনভাবে খেলা করতে দেখা যেতো যে, এখনই যেন তারা পাগুলো সবার সামনে দেখাতে যাচ্ছে, তবুও দেখাচ্ছে না!

মাথার খুলির স্বাভাবিক আকৃতির পরিবর্তন

 

 খুলির স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তনের এ চর্চার প্রমাণ মেলে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দের দিকে মায়া সভ্যতার লোকদের মাঝে। একেবারে শৈশব থেকে শুরু হতো এ প্রক্রিয়া। এজন্য একটি শিশুকে কোনো বোর্ডের সাথে বিভিন্ন হাতিয়ার সহযোগে শক্ত করে বেঁধে রাখতো। মাথার দিকে এমনভাবে চাপ দিয়ে রাখা হতো যেন তা কিছুটা লম্বাটে আকার ধারণ করে।

 

 

 

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকেই যেতে হতো এ প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে। এটি তাদের সামাজিক মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত ছিলো না। বরং তারা এটাকে সৌন্দর্য চর্চার অংশ হিসেবেই দেখতো। হান, হাওয়াইয়ের অধিবাসী, তাহিতির অধিবাসী, ইনকা সভ্যতা, উত্তর আমেরিকার চিনুক ও চকতাও গোত্রের লোকেদের মাঝেও এ চর্চা প্রচলিত ছিলো।

বড় নখ যখন প্রাচুর্যের প্রতীক

এবারের ঘটনার কেন্দ্রেও থাকছে চীনের অধিবাসীরা। এককালে চীনের লোকদের মাঝে হাতের নখ বড় রাখার চল ছিলো। কিং রাজবংশের সময়কালে তাদের নারী-পুরুষদের হাতের নখ কখনো কখনো ৮-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা দেখা যেত। কোনো কোনো নারীকে নখ ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে স্বর্ণের তৈরি নেইল-গার্ড ব্যবহার করতেও দেখা গিয়েছে।


 

নখ বড় রাখার বিচিত্র এ চর্চা দেখা যেত মূলত ধনী সমাজের মাঝেই। তারা এমনটা করতো এটা বোঝাতে যে, তাদের এত টাকা-পয়সা আছে যে নিজ হাতে অনেক কাজ না করলেও তাদের চলে। দাস-দাসী দিয়েই জামা-কাপড় পরা ও খাওয়াদাওয়ার কাজটা সেরে নিতো তারা।

চোখের পাতার লোম উৎপাটন

 

মধ্যযুগে এবং রেনেসাঁর সময়ে ইউরোপের নারীদের সাজসজ্জা শুধু মাথার চুল তুলে কপাল বড় করার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো না। চোখের পাতার লোমকে তখন অতিরিক্ত যৌনাবেদনময়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। তাই অনেক নারীই তাদের সেই লোমগুলো একেবারে তুলে ফেলতেন।

জাপানী নারীদের কাল দাঁত

 

 

প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস আমাদের মাঝে গড়ে ওঠে সেই ছোটবেলা থেকেই। দাঁতের সুরক্ষা রক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দাঁতকে ঝকঝকে সাদা দেখানোও নিয়মিত এ ব্রাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে জাপানী নারীদের মাঝে প্রচলিত সৌন্দর্য চেতনা ছিলো এর ঠিক উল্টো। হাজার বছর ধরে জাপানী নারীরা তাদের দাঁতকে কালো রঙে রাঙিয়ে নিতো। উনিশ শতক পর্যন্তও তাদের মাঝে এ চর্চা দেখা গেছে। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি বিয়ের অঙ্গীকার রক্ষার একটা প্রতীকি রুপও ছিলো কালো এ দাঁত।

বিউটি প্যাচ (Beauty Patch)

আঠারো শতকে এসে ইউরোপীয় নারীদের সৌন্দর্য চর্চায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। আগেকার সময়ের হালকা সাজসজ্জার বদলে তখন তারা বেশ ভারী সাজসজ্জার দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। এরই একটা অংশ ছিলো বিভিন্ন ধরনের বিউটি প্যাচ।


চাঁদ, তারা, বর্গ, বৃত্ত ইত্যাদি নানা আকৃতির বিউটি প্যাচ পাওয়া যেত তখন। ছোট ছোট সেই ফেব্রিকগুলো মুখের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হতো। আর একেক জায়গায় লাগানোর অর্থ ছিলো একেক রকম। যেমন- যদি কোনো নারী এমন বিউটি প্যাচ তার ডান গালে পরতো তবে তার অর্থ হতো যে, সে বিবাহিতা।

শিরাময় ক্লিভেজ

এখন যে চর্চাটার কথা বলবো তা যে কিভাবে জনসমক্ষে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শনের একটা উপায় হতে পারে তা তৎকালীন নারীরাই ভালো বলতে পারবেন।
সতের শতকে ইংল্যান্ডে নারীদের ফ্যাশনের মাঝে অন্যতম জনপ্রিয় ছিলো নিজেদের ক্লিভেজ। এ উদ্দেশ্যে জামার গলা নিচে নামানোর চল শুরু হয় তখন। একই সময়ে নিজেদের চামড়াকে যথাসাধ্য ফ্যাকাশে করে দেখানোর একটি ফ্যাশনও ছিলো। এটা অবশ্য দেখা যেত মূলত ধনী সমাজের নারীদের মাঝে। এটা দ্বারা তারা বোঝাতে চাইতো যে, তাদের এত বেশি টাকা-পয়সা আছে যে, ঘরের বাইরে গিয়ে শ্রমসাধ্য কাজগুলো না করলেও তাদের চলে। মুখ থেকে ক্লিভেজ পর্যন্ত পাউডার মেখে নিজেদের সাদা দেখানোর পাশাপাশি বক্ষদেশে নীল রঙের শিরাও এঁকে নিতেন তারা। তাদের ত্বক যে আলোকভেদ্য এটা বোঝাতেই এমন অদ্ভুত কাজ করতেন তারা।

রঙিন ভ্রু

আবারো প্রাচীনকালের চীন থেকে একটু ঢুঁ মেরে আসা যাক। তৎকালীন নারীরা তাদের ভ্রুকে কালো, নীল কিংবা সবুজ গ্রীজ দিয়ে রাঙাতে খুব পছন্দ করতো। সেই সাথে তখনকার ফ্যাশন অনুযায়ী ভ্রুকে দিতো নানা আকৃতি।


প্রাচীন গ্রীসে জোড়া লাগা ভ্রু ছিলো নারীদের পবিত্রতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। এজন্য জন্মগতভাবে এটা না থাকলে অনেকেই চোখে সুরমা ব্যবহার করে সেই ঘাটতিটা পূরণ করতো।

লম্বা গাল

 

 

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যে যুগে যুগে পাল্টায় এতক্ষণ ধরে উপরের লেখাগুলো পড়ে তো সেগুলো বুঝে যাওয়ার কথা যে কারোরই। এখন এ তালিকায় আরেকটি তথ্য যোগ করা যাক। আজকের দিনে সবাই যেখানে ‘স্লিম ফিগার’-এর দিকে ঝুঁকছে, সেখানে চীনে ট্যাং রাজবংশের শাসনামলে ব্যাপারটা ছিলো ঠিক উল্টো। তখন স্থূলকায়, গোলগাল মুখ, লম্বা গাল এবং প্রশস্ত কপালের মেয়েদেরই সুন্দর বলে বিবেচনা করা হতো।

মূত্র দিয়ে দাঁত পরিষ্কার

 

 

প্রাচীন ধনী রোমান সম্প্রদায়, আরো ভালো করে বলতে গেলে ধনী রোমান নারীরা তাদের দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করার জন্য বেছে নিয়েছিলো মানবমূত্রকে। সেই মূত্র দিয়ে ধুয়েই দাঁত পরিষ্কারের কাজটি সারতো তারা। তবে যেনতেন মানুষের মূত্রের উপর ভরসা করতে পারতো না তারা। দাঁত পরিষ্কারের জন্য তারা শুধুমাত্র পর্তুগিজদের মূত্রই ব্যবহার করতো। এজন্য জাহাজ ভর্তি করে জার পূর্ণ পর্তুগিজ মূত্র আসতো রোমান নারীদের জন্য। মূত্রে থাকা অ্যামোনিয়া জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করতো। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সত্য যে, আঠার শতক পর্যন্ত মাউথওয়াশ হিসেবে মূত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

রক্ত ঝরানো

মধ্যযুগে ইউরোপে চেহারার মাঝে কিছুটা ফ্যাকাশে ভাব থাকার অর্থ ছিলো যে, আপনি ধনী। বাইরে কাজ করতে গেলে রোদে পুড়ে দেহ কিছুটা তামাটে বর্ণ ধারণ করে। এজন্য নিজেদের চেহারাকে যথাসম্ভব ফ্যাকাশে দেখানোও এককালে ইউরোপের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিলো।


এখন প্রশ্ন হলো- মুখকে কিভাবে ফ্যাকাশে দেখানো যায়? এজন্য বিভিন্ন রকম পন্থাই অবলম্বন করা হতো। এর মাঝে ৬ষ্ঠ শতকে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলো একটি পদ্ধতি। এজন্য একজন নারী তার শরীরে জোঁক লাগিয়ে রাখতেন। জোঁক রক্ত শুষে নেয়ায় স্বাভাবিকভাবে রক্তশূন্যতার দরুণ কিছুটা ফ্যাকাশে লাগতো সেই নারীকে। ব্যাস, এতেই হয়ে যেত তাদের ফ্যাশন!
তথ্যসূত্র
১) ranker.com/list/crazy-womens-beauty-standards-from-history/machk
২) bustle.com/articles/119455-7-weirdest-beauty-trends-methods-throughout-history
৩) bust.com/style/15479-tk-totally-weird-beauty-trends-in-history.html
৪) stuffmomnevertoldyou.com/blogs/beauty-patches.htm
৫) roarbangla.com/history/bizarre-lifestyle-of-ancient-china/
ভাইকিংদের বিয়ের বিচিত্র প্রথার আদ্যোপান্ত

ভাইকিংদের বিয়ের বিচিত্র প্রথার আদ্যোপান্ত

‘বিয়ে’- মাত্র দুই অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এই দুই অক্ষরের মাঝেই রয়েছে পুরো জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়ার অবিশ্বাস্য এক ক্ষমতা। তাই আমাদের সমাজে পাত্র-পাত্রী দেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার একেবারে শেষ পর্যন্ত থাকে সংশ্লিষ্ট শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষগুলোর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতার অকৃত্রিম ছোঁয়া।
আমাদের সমাজে ধর্মভেদে বিয়ের অনুষ্ঠান কিভাবে আয়োজন করা হয়, সে সম্পর্কে কমবেশি ধারণা আমাদের সবারই আছে। আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগেকার এক সভ্যতার কাছে যাওয়া যাক। অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত সময়কালে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে লুন্ঠন ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতো নর্ডিক সমুদ্র ভ্রমণকারী ভাইকিংরা।
শত-সহস্র বছর আগেকার এই ভাইকিংদের মাঝেও প্রেম-বিয়ে-পরিবার বিষয়ক অনুভূতিগুলো স্বাভাবিকভাবেই বিরাজমান ছিলো। আজ তাই আমরা ভাইকিংদের বিয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েই আলাপ করবো। একেবারে পাত্র-পাত্রী দেখা থেকে শুরু করে বিয়ের প্রথম রাত (!) পর্যন্ত গিয়ে তবেই ইতি টানবো ভাইকিংদের বিয়ে নিয়ে নাতিদীর্ঘ এ আলোচনার।

দুই পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ

বিয়ের আগে প্রথমে যে জিনিসটি দরকার, তা হলো দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে মতের মিল হওয়া। এজন্য আমাদের সমাজের মতো ভাইকিংরাও প্রথমে দুই পরিবারের সদস্যরা মিলিত হতো।


কনেপক্ষের যৌতুক, বরের ধন-সম্পদের পরিমাণ যাচাই, বিয়ের তারিখ এবং বরের পরিবার বিয়েতে কনেকে কী কী জিনিস উপহার দিবে তা ঠিক করতে একত্রিত হতো দুই পরিবারের মুরব্বি গোছের লোকেরা। বরের পরিবার এবং তাদের এলাকার অন্যান্য প্রভাবশালী লোকেরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেত কনেপক্ষের কাছে, বিভিন্ন বিপদ-আপদে দিত সহায়তার প্রতিশ্রুতি।

বিয়ের তারিখ নির্ধারণ

বিভিন্ন বিষয়ে দুই পরিবার একমত হলে এরপর দরকার বিয়ের জন্য সুবিধাজনক দিনক্ষণ নির্ধারণ। এজন্য অবশ্য বেশ কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতো ভাইকিংরা।


                                                      দেবী ফ্রিজ্ঞার কাল্পনিক প্রতিকৃতি

সাধারণত তাদের সমাজের বিয়েগুলো শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হতো। কারণ তাদের বিশ্বাসানুযায়ী সেই দিনটি বিয়ের দেবী ফ্রিজ্ঞার কাছে ছিলো পবিত্র। বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত এক সপ্তাহকাল স্থায়ী হতো। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবেরা দূর-দূরান্ত থেকে চলে আসতো এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তবে শীতকালে তুষারপাতের কারণে চলাচল বেশ কষ্টসাধ্য হতো বলে তখন সাধারণত কোনো বিয়ের আয়োজন করা হতো না। বিয়েতে আগত অতিথিদের জন্য প্রয়োজনীয় থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়কালে দরকারী খাদ্য ও পানীয়ের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভাইকিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে নব দম্পতির জন্য বিশেষ এক প্রকার বিয়ার প্রস্তুতির কথাও মাথায় রাখা লাগতো।
এভাবে দুই পরিবারের সদস্যদের একসাথে বসা থেকে শুরু করে বিয়ের চুড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সারতে এক বছরের মতো সময় লেগে যেত তাদের। তবে আইসল্যান্ডে থাকা ভাইকিংদের জন্য ব্যাপারটা মাঝে মাঝে আরো দীর্ঘায়িত হয়ে যেত। প্রায় সময়ই তাদেরকে নরওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা লাগতো। ফলে সবাইকে একসাথে পেতে কখনো কখনো তিন বছরের মতো সময় লাগিয়ে দিত তারা।

কুমারীকালের অবসান

বিয়ের মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেশ কিছু প্রথা পালনের ভেতর দিয়ে যাওয়া লাগতো প্রত্যেক ভাইকিং নর-নারীকে। প্রথমে নারীর কথাতেই আসা যাক।
পুরাতন জামা-কাপড় ছেড়ে কনেকে নতুন ধরনের পোষাক পরানো হতো। তার শরীরে শোভা পাওয়া যে অলঙ্কারগুলো ছিলো তার কুমারীত্বের প্রতীক, সেগুলো খুলে নেয়া হতো। এ প্রসঙ্গে ক্র্যানসেন নামক এক ধরনের অলঙ্কারের কথা বলা যায় যা স্ক্যান্ডিন্যাভিয়ান নারীরা তাদের কুমারীত্বের প্রতীক হিসেবে পরিধান করতো। বিয়ের উপলক্ষ্যে সেই ক্র্যানসেন খুলে কনের ভবিষ্যত কন্যা সন্তানের জন্য রেখে দেয়া হতো, আর কনেকে পরানো হতো বিয়ের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত মুকুট।
বিয়ের জন্য আলাদাভাবে বানানো স্নানাগারে শুচিস্নান সেরে নিতো কনে। বাথটাবের তলদেশে রাখা হতো গরম পাথর, যার ফলে তৈরি হতো বাষ্প। সেই সময়ে শরীরের ঘামগুলো মুছে ফেলার প্রতীকী অর্থ ছিলো একজন নারী তার অবিবাহিত জীবনের অবসান ঘোষণা করছে। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল সেরে শুচিস্নানের ইতি টানতো ভাইকিং কনে।
গোসলের পুরো সময়টা জুড়ে কনের মা, বিবাহিতা অন্যান্য বোন, আত্মীয়া এবং বান্ধবীরা থাকতো তার সাথে।

বরের প্রতীকী মৃত্যু ও পুনরুত্থান

কনের মতো বরকেও কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাঝে দিয়ে যেতে হতো যার মধ্য দিয়ে তার অবিবাহিত জীবনের পরিসমাপ্তিকে বোঝানো হতো। এ সময় তার সাথে থাকতো তার বাবা, বিবাহিত অন্যান্য ভাই ও বন্ধুরা।


বরের সাথে থাকা লোকজন তার কোনো পূর্বপুরুষের তলোয়ার একটি কবরের ভেতরে রেখে আসতো প্রথমে। এরপর বরের কাজ হতো কবর খুঁড়ে সেখানে নামা এবং সেই তলোয়ার হাতে উপরে উঠে আসা। সে একজন যুবক হিসেবে কবরে গিয়েছে এবং একজন পুরুষ হিসেবে তার পুনর্জন্ম হয়েছে- এ কথাটিই বোঝাতো এ প্রতীকী অনুষ্ঠানটি। এরপর হবু বউয়ের মতো তাকেও শুচিস্নানে যেতে হতো। সেখানে সাথে থাকা লোকেরা একজন স্বামী এবং ভবিষ্যতে বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে তাকে জ্ঞান দান করতো।

বর-কনের পোষাকী সাজসজ্জা

গোসল তো সারা হলো, এবার তাহলে বিয়ের পোষাকের দিকে নজর দেয়া যাক। বর্তমানে অধিকাংশ বিয়েতেই মেয়েদের পরনের পোষাকটিকে বেশ জমকালো হিসেবে বেছে নেয়ার একটা চল আছে। তবে অতীতে ভাইকিং সভ্যতার বেলায় ছিলো এর ঠিক উল্টো কাহিনী। তাদের নারীরা পোষাকের চেয়ে বরং নিজেদের চুল আর বিয়ের মুকুটের দিকেই বেশি নজর দিতো। সেই সমাজে নারীর সৌন্দর্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ছিলো তার চুল। একে একইসাথে তার যৌনাবেদনময়তার মাত্রা হিসেবেও দেখা হতো। চুল যত বড় হতো, মেয়েটিকে ততই আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

 আগেই বলেছি যে, বিবাহপূর্ব আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে কুমারীত্বের প্রতীক ক্র্যানসেনকে সেদিন খুলে রাখতো একটি মেয়ে। এর পরিবর্তে বংশ পরম্পরায় প্রাপ্ত একটু মুকুট পরিয়ে দেয়া হতো তার মাথায়। রুপোর তৈরি সে মুকুটে থাকতো হরেক রকম ডিজাইন, থাকতো প্রাকৃতিক স্ফটিক, ক্রস আর ক্লোভ পাতার সমাহার। মুকুটটিকে লাল ও সবুজ রঙের সিল্কের রশি দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হতো।



এবার আসা যাক বরের কথায়। বরের পোষাক তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। শুচিস্নানের পর ভালো দেখে যেকোনো একটা পোষাক পরে নিতো সে। বরের হাতে শোভা পেত একটু আগেই কবর থেকে তুলে আনা সেই তলোয়ার। সেই সাথে কখনো কখনো দেবতা থরের বিখ্যাত সেই হাতুড়ি কিংবা একটু কুড়ালও থাকতো তার হাতে। এ অস্ত্রগুলো সমাজে যেমন তার প্রভাব-প্রতিপত্তিকে নির্দেশ করতো, তেমনি একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের নিশ্চয়তার প্রতীক হিসেবেও গণ্য হতো।

পশু বলীদান

বিবাহপূর্ব সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে শুরু হতো মূল অনুষ্ঠান। প্রথমেই সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বরকে দেয়া হতো যৌতুক। এছাড়াও বরপক্ষ থেকে কনেপক্ষকে দেয়া হতো Mundr যা কনের মূল্য হিসেবে পরিচিত।

 এরপর শুরু হতো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রোচ্চারণ ও পশু বলীর মাধ্যমে দেব-দেবীদের আশীর্বাদ লাভ করতে চাইতো তারা। বিভিন্ন দেবতার জন্য বিভিন্ন পশু উৎসর্গ করা হতো। থরের উদ্দেশ্যে ছাগল, ফ্রেয়জার উদ্দেশ্যে পূর্ণবয়স্ক শূকরী এবং ফ্রেয়ারের উদ্দেশ্যে শূকর কিংবা ঘোড়া উৎসর্গ করার রীতি প্রচলিত ছিলো ভাইকিং সমাজে।

                                                                      থর

                                                                      ফ্রেয়জা

                                                                   ফ্রেয়ার

বলী দেয়া পশুর রক্ত সংগ্রহ করা হতো একটি গামলায়। এরপর সেই গামলাটি একটি বেদীর উপর রেখে তাতে ফার গাছের ছোট ডাল চুবিয়ে রক্ত ছিটিয়ে দেয়া হতো নবদম্পতির গায়ে। একে তারা দেবতাদের আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতো। মাঝে মাঝে জীবন্ত পশুও উৎসর্গ করার কথা জানা যায়। সেসব পশুকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হতো ভাইকিং সমাজে।

বিনিময়

তলোয়ার যে ভাইকিং বিবাহ পদ্ধতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, তা তো এতক্ষণের বিভিন্ন প্রথার বর্ণনায় যে কারো বুঝে যাবার কথা। এই তলোয়ার নিয়েই এরপর আরেকটি প্রথা পালন করতো নবদম্পতি।



বর তার নববধূর হাতে কবর থেকে তুলে আনা পূর্বপুরুষের তলোয়ারটি তুলে দিতো। মেয়েটি তা সযত্নে রেখে দিতো তাদের ভবিষ্যত পুত্রসন্তানের জন্য। এরপর কনে তার পূর্বপুরুষের একটি তলোয়ার তুলে দিতো ছেলেটির হাতে। এর অর্থ ছিলো এতদিন ধরে মেয়েটির অভিভাবকের যে দায়িত্ব তার বাবা পালন করেছেন, এখন থেকে সেই দায়িত্ব পালন করবে তার স্বামী। তাদের মাঝে আংটি বিনিময়ও হতো। তবে তা খালি হাতে না। বরং সেই তলোয়ারের মুঠোর মাঝে ঝুলিয়েই দেয়া-নেয়া হতো সেসব আংটি।

ভোজনপর্ব

বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার পর শুরু হতো ভোজনপর্ব। তবে এ সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। কারণ যখন এ রীতিগুলো লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়, ততদিনে ভাইকিংরা মূর্তিপূজা ছেড়ে দিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে শুরু করেছিলো। ফলে পূর্বের অনেক প্রথা সম্পর্কেই কিছু লেখা হয় নি।
ভাইকিংরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে খাওয়ার জায়গায় যে প্রথার মাধ্যমে যেত তাকে বলা হতো ‘bruð-hlaup’ বা ‘কনে-দৌড়’। মূর্তিপূজক থাকাকালে দুই পক্ষের মাঝে একটা প্রতিযোগিতা হতো। যে পক্ষ আগে খাবার জায়গায় পৌঁছতে পারতো, পরাজিত পক্ষ তাদেরকে রাতের বেলায় বিয়ার পরিবেশন করতো। খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হবার পর থেকে অবশ্য তারা আলাদাভাবে ধীরে-সুস্থে হেঁটেই খাবারের জায়গায় যেত।


 খ্রিষ্টান শাসিত স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে খাবার জায়গায় আগে বর প্রবেশ করতো। এরপর সে সেখানে ঢোকার জায়গা আটকে দিতো যাতে করে তার সহায়তা ছাড়া নববধূ সেখানে ঢুকতে না পারে। বৌ সেখানে এসে পৌঁছলে বরের হাত ধরে খাবারের আসরে ঢুকতো সে। এভাবে অবিবাহিত থেকে বিবাহিত জীবনে স্বামীর হাত ধরে পথচলা শুরুর প্রতীকী রুপ ছিলো এ কাজটি।


খাওয়াদাওয়া চলাকালে দেবতা থরের প্রতীকী আশীর্বাদ হিসেবে তার হাতুড়ি জলনিরের প্রতিমূর্তি রাখা হতো কনের কোলে।

পানোৎসব

খাওয়াদাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে পানোৎসবে মেতে উঠতো। এ সময় তারা মধু ও পানির গাজন থেকে প্রস্তুত বিশেষ এক ধরনের বিয়ার পান করতো। এ বিয়ারটি কমপক্ষে এক মাস পান করার হিসেব করে বানানো হতো। পুরো হানিমুন জুড়ে নবদম্পতি এ বিয়ারটি পান করতো।

 বিশেষ এক মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতে স্ত্রী প্রথমে ‘ভালোবাসার পাত্র’ বলে পরিচিত একটি পাত্রে বিয়ারটি তার স্বামীকে পরিবেশন করতো। স্বামী পান করা আগে এর উপর থরের হাতুড়ির একটি কাল্পনিক চিত্র এঁকে বিয়ারটি থরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতো এবং ওডিনের উদ্দেশ্যে পানপাত্রটি তুলে ধরতো। একবার চুমুক দিয়ে স্বামী এরপর পাত্রটি এগিয়ে দিতো তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে। স্ত্রী সেটি দেবী ফ্রেয়জার উদ্দেশ্যে তুলে ধরে এরপর গলাধঃকরণ করতো।


নবদম্পতির প্রথম রাত

সারাদিনের উৎসব শেষে নবদম্পতিকে কমপক্ষে ছয়জন কাছের মানুষ তাদের শোবার ঘরের দিকে নিয়ে যেত। বর আসবার পূর্বে স্ত্রী তার বিয়ের মুকুট পরে ঘরে অপেক্ষা করতো। তাদের খাটটি ছোট ছোট স্বর্ণের অলঙ্কার দিয়ে সাজিয়ে তোলা হতো।


স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক শুরু হবার পর কিছু সময় পর্যন্ত তাদের সাথে আসা মানুষগুলো সাক্ষী হিসেবে সেখানে থাকতো এবং সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতো! ভাইকিংদের সমাজে বিচিত্র এ নিয়মের পেছনের কারণটিও ছিলো বেশ অদ্ভুত। ভবিষ্যতে এ বিয়ে নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে যাতে সেই ছয়জন বিয়ের বৈধতা নিয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, সেজন্যই চালু করা হয়েছিলো এ নিয়মটি। কিছুক্ষণ পরই অবশ্য নবদম্পতির উদ্দেশ্যে নানারকম ১৮+ রসিকতা করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত তারা।
বিয়ের প্রথম রাতে কনে কী স্বপ্ন দেখতো তা ছিলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাইকিংরা বিশ্বাস করতো যে ভবিষ্যতে মেয়েটি কতগুলো সন্তানের জন্ম দিবে, তার বিবাহিত জীবন কেমন হবে এবং তার পরবর্তী বংশধরদের জীবন কেমন যাবে সে সম্পর্কে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে এ রাতের স্বপ্নেই।
তথ্যসূত্র
১) en.wikipedia.org/wiki/Vikings
২) vikinganswerlady.com/wedding.shtml
৩) ranker.com/list/viking-wedding-traditions-and-rituals/lyra-radford

Monday, June 13, 2016

ব্লুটুথের নতুন সংস্করণ বাজারে

ব্লুটুথের নতুন সংস্করণ বাজারে

ঢাকা : ব্লুটুথ থেকে শুরু করে ২,৩,৪,৪.২ ভার্সনে ব্লুটুথ, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ব্লুটুথ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্লুটুথ স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ বাজারে নিয়ে এলো ব্লুটুথের উন্নত সংস্করণ ব্লুটুথ ৫। বর্তমান সংস্করণটি আগের সংস্করণ থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে বলে দাবি করছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মার্ক পাওয়েল। পাওয়েল জানান, আগামী ১৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লুটুথের পরবর্তী সংস্করণ ব্লুটুথ ৫ বিশ্ববাজারে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই নতুন ব্লুটুথ সংস্করণের কার্যকারিতা বুঝতে পারেন না এবং এটিকে অন্যান্য মোবাইল ফিচারের মতোই দেখেন। তবে ব্লুটুথ ৫-এ এবার বিশেষ কিছু আপডেট থাকছে। ব্লটুথ ৫-এর যে বিষয়গুলো সবার জানা প্রয়োজন সেগুলো এখানে আলোচনা করা হলো: ব্লুটুথের নতুন সংস্করণটি বর্তমান সংস্করণের থেকে দ্বিগুণ পরিসর আয়ত্ত্বে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বাজারে আসবে বলে দাবি করছেন নির্মাতারা।

নতুন সংস্করণটি ওয়াই-ফাই ডিরেক্টের পরিসরে বাজারে আসবে। অনেকেই হয়তো জানেন না, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট প্রতি সেকেন্ড অন্তত ২৫০ মেগাবাইট স্পিড প্রদান করে যেখানে ব্লুটুথ ৪.০’র ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ২৫ মেগাবাইট। তবে ব্লুটুথ ৫ সংস্করণটি বর্তমান ৪.২ সংস্করণের থেকে ৪ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হবে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লুটুথের বর্তমান প্যাকেটের আকার ৪৭ বাইটস এবং এতে ডিভাইসের নাম এবং টাইপের বিস্তারিত বর্ণনা আছে। তবে ব্লুটুথ ৫ সংস্করণে বৃহৎ প্যাকেট এবং অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষরণের ক্ষমতা থাকবে।

সংযোবিহীন সার্ভিসের ক্ষেত্রে নতুন সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসছে ব্লুটুথ ৫। এদের বেশিরভাগই অবস্থান ও এবং নেভিগেশনগত তথ্যের সাথে সম্পর্কিত তথ্য। ব্লুটুথ ৫ পুরনো ব্লুটুথ ডিভাইসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়ে কোন তথ্য উল্লেখ করেনি পাওয়েল। ব্লুটুথ ৪.০ ডিভাইসগুলো ব্লুটুথ ৪.১ এবং কিছু ক্ষেত্রে ৪.২ সংস্করণে আপডেট হতে পারে। তবে ব্লুটুথ ৫.০ সংস্করণে নতুন হার্ডওয়্যারের দরকার পড়তে পারে।

ব্লুটুথের নতুন সংস্করণ বাজারে

ঢাকা : ব্লুটুথ থেকে শুরু করে ২,৩,৪,৪.২ ভার্সনে ব্লুটুথ, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ব্লুটুথ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্লুটুথ স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ বাজারে নিয়ে এলো ব্লুটুথের উন্নত সংস্করণ ব্লুটুথ ৫। বর্তমান সংস্করণটি আগের সংস্করণ থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে বলে দাবি করছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মার্ক পাওয়েল। পাওয়েল জানান, আগামী ১৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লুটুথের পরবর্তী সংস্করণ ব্লুটুথ ৫ বিশ্ববাজারে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই নতুন ব্লুটুথ সংস্করণের কার্যকারিতা বুঝতে পারেন না এবং এটিকে অন্যান্য মোবাইল ফিচারের মতোই দেখেন। তবে ব্লুটুথ ৫-এ এবার বিশেষ কিছু আপডেট থাকছে। ব্লটুথ ৫-এর যে বিষয়গুলো সবার জানা প্রয়োজন সেগুলো এখানে আলোচনা করা হলো: ব্লুটুথের নতুন সংস্করণটি বর্তমান সংস্করণের থেকে দ্বিগুণ পরিসর আয়ত্ত্বে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বাজারে আসবে বলে দাবি করছেন নির্মাতারা।

নতুন সংস্করণটি ওয়াই-ফাই ডিরেক্টের পরিসরে বাজারে আসবে। অনেকেই হয়তো জানেন না, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট প্রতি সেকেন্ড অন্তত ২৫০ মেগাবাইট স্পিড প্রদান করে যেখানে ব্লুটুথ ৪.০’র ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ২৫ মেগাবাইট। তবে ব্লুটুথ ৫ সংস্করণটি বর্তমান ৪.২ সংস্করণের থেকে ৪ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হবে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লুটুথের বর্তমান প্যাকেটের আকার ৪৭ বাইটস এবং এতে ডিভাইসের নাম এবং টাইপের বিস্তারিত বর্ণনা আছে। তবে ব্লুটুথ ৫ সংস্করণে বৃহৎ প্যাকেট এবং অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষরণের ক্ষমতা থাকবে।

সংযোবিহীন সার্ভিসের ক্ষেত্রে নতুন সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসছে ব্লুটুথ ৫। এদের বেশিরভাগই অবস্থান ও এবং নেভিগেশনগত তথ্যের সাথে সম্পর্কিত তথ্য। ব্লুটুথ ৫ পুরনো ব্লুটুথ ডিভাইসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়ে কোন তথ্য উল্লেখ করেনি পাওয়েল। ব্লুটুথ ৪.০ ডিভাইসগুলো ব্লুটুথ ৪.১ এবং কিছু ক্ষেত্রে ৪.২ সংস্করণে আপডেট হতে পারে। তবে ব্লুটুথ ৫.০ সংস্করণে নতুন হার্ডওয়্যারের দরকার পড়তে পারে।