Friday, April 24, 2020

ফেসবুকে যোগ হয়েছে নতুন রিয়্যাক্ট বাটন

ফেসবুকে যোগ হয়েছে নতুন রিয়্যাক্ট বাটন

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি কাজ করছে ‘মার্ক জুকারবার্গের’ফেসবুক। এরই ধারাবাহিকতায় এবার করোনাবাইরাস সম্পর্কে ইউজারদের সতর্ক করতে নতুন করে সম্প্রতি ফেসবুকে “কেয়ার” এবং ম্যাসেঞ্জারে “হাগ” রিয়্যাকশন বাটন যোগ হয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বপ্রথম ফেসবুক চালু হয়েছিল রিয়্যাকশন বাটন ফিচার।




মূলত ফেসবুকের অন্যান্য রিয়্যাক্ট বাটনের আদলেই একটি ফেস ইমোজি’কে আরেকটি হার্ট ইমোজি জড়িয়ে ধরেছ। ব্লগ পোস্টে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন রিয়্যাকশনটি ব্যাবহার করা হবে করোনা মহামারীর এই সঙ্কটের সময়ে সাপোর্ট করা বোঝাতে। ফেসবুকের মতে, এই নতুন রিয়্যাকশনটি ইউজারদের তাদের কাছের মানুষজনের সাথে অনলাইনে আরেকটু বেশি সংযুক্ত থাকার অনুভুতি দেবে।

শুরু দিকে ফেসবুকে শুধু লাইক বাটন ছিল। তখন খারাপ বা শোক সংবাদেও লাইক দিতে হত, পাশাপাশি কোন হাসির পোস্টেও লাইক দিতে হত। তাই ইউজারদের সুবিধার্থে ২০১৫ সালে বৈপ্লবিক পরিবর্তণ হিসেবে ফেসবুকে যোগ করা হয়েছিল “ওয়াও, হাহা, স্যাড, এংরি ও লাভ” রিয়্যাক্ট বাটন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতিতে ইউজারদের সুবিদার্থে নতুন ফেসবুকে “কেয়ার” এবং ম্যাসেঞ্জারে “হাগ” রিয়্যাকশন বাটন যোগ হয়েছে।

মানুষ এটি ব্যবহার করার সাথে সাথে করোনভাইরাস-নির্দিষ্ট সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশের এক মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এক ধরণের সচেতনতা তৈরি করতেই এমন সিদ্ধান্ত। মুলত করোনা ভাইরাসের বিপক্ষে সচেতনতা তৈরি করতেই ফেসবুকে নতুন রিয়্যাকশন বাটন আসতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীতে কেন কেউ করোনা ভাইরাস প্রতিক্রিয়া বাটনটি চাইবে?
দেখা গেল চাঁদ, কাল থেকে রোজা শুরু

দেখা গেল চাঁদ, কাল থেকে রোজা শুরু

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে শনিবার (২৫ এপ্রিল)। চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২০ মে বুধবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য মো. নুরুল ইসলাম।


রমজান মাস শেষেই আসবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এবার ২৯ দিনেই শেষ হলো শাবান মাস।

সভায় সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শনিবার থেকে রমজান মাস শুরু হচ্ছে।

আগামী ২০ মে বুধবার দিবাগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে বলেও জানান তিনি।

আজ রাতেই (এশার নামাজের পর) ২০ রাকাত তারাবির নামাজ শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে সেহরি খাবেন মুসলমানরা। ঢাকায় প্রথম দিন সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ৫ মিনিট। প্রথম রোজার ইফতারের সময় ৬টা ২৮ মিনিট।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যেকোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।

এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের এবাদতের চেয়েও উত্তম লাইলাতুল কদর। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।

অপরদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে শুক্রবার থেকে রমজান শুরু হয়েছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজের মতো তারাবির নামাজ পড়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে এশারের জামাত ও তারাবি নামাজে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, খাদেম ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বাকিদের এ নামাজ ঘরে বসে আদায় করতে হবে।

সরকারি এই নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ

অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামে কৃষকের বোরো ও ইরি ধান কেটে দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মাঠে ধান কেটে তা কৃষকের বাড়িও পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 



কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ বিভিন্ন উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নির্দেশে রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে স্থানীয় কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফটিকছড়ি, মিরসরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ধান কেটে তা বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও আনোয়ারা, পটিয়া ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মিরসরাই উপজেলার ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম খৈয়াছড়া এলাকার আলাউদ্দিন নামে এক কৃষকের এক কানি ও একই ইউনিয়নের অন্য কয়েকজন কৃষকের ধান কেটে তা বাড়িতে পৌঁছে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জনাব,তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা অনুযায়ী ফটিকছড়ি, মিরসরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ। আমরা ধান কেটে তা কৃষকের বাড়িতেও পৌঁছে দিচ্ছি। এছাড়া অনেক কৃষক, যারা করোনার কারণে কষ্ট করছে তাদের আর্থিক সহযোগিতাও করছি আমরা।

এখনও সব এলাকায় ধান পাকতে শুরু করেনি। যেসব এলাকায় পেকেছে আপাতত ওইসব এলাকার কৃষকদের সহযোগিতা করছি আমরা। পর্যায়ক্রমে উত্তর জেলার আওতাধীন সব উপজেলায় আমাদের এ কার্যক্রম চলবে।
মৃত্যুর মিছিলে আরও চারজন, নতুন শনাক্ত ৫০৩

মৃত্যুর মিছিলে আরও চারজন, নতুন শনাক্ত ৫০৩

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩১ জনে। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫০৩ জন। ফলে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে চার হাজার ৬৮৯। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও চারজন। এতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২-এ।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।




তিনি বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার ৬৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৬টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরও ৫০৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৮৯ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও চারজন, চারজনই পুরুষ এবং সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও চারজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১১২।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১২৩ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ২৮ জন এবং এ পর্যন্ত মুক্ত হয়েছেন ৬২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন হাজার ৬৯৬ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৮৪৬ জনকে। কোয়ারেন্টাইন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৫ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১১২ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮২ হাজার ৭৩৫ জন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সারাদেশের ৬৫ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬০১টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টাইন সেবা প্রদান করা যায় ২৩ হাজার ৬৩৫ জনকে। যারা কোয়ারেন্টাইনে থাকেন তারা আসলে সুস্থ। তারা যেহেতু কোনো করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসেন তাই তাদের এবং তাদের পরিবার পরিজনকে নিরাপদ রাখতেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় আসন্ন রমজানে মসজিদে এশা ও তারাবিহ নামাজ আদায়ে যে নির্দেশনা (দুই হাফেজসহ ১২ মুসল্লি নিয়ে জামাত) দিয়েছে সেটা মেনে চলার আহ্বান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।




রমজানে ইফতার মাহফিল বা এ ধরনের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। ডা. নাসিমা বলেন, নিজে সুস্থ থাকবো এবং নিজের পরিবারের সদস্যকে সুস্থ রাখতে এ নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সোয়া ২৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ছুঁই ছুঁই। তবে সাড়ে সাত লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপের মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায়, বিশেষত ঘরে রাখা। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না বিধায় করোনাভাইরাসের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
বিএনপি বিভ্রান্তির ভাইরাস ছড়াচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি বিভ্রান্তির ভাইরাস ছড়াচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের কোথাও টাস্কফোর্স দলীয়ভাবে বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তোলার কোনো নজির নেই। করোনা প্রতিরোধে জাতীয় টাস্কফোর্স বা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার নামে বিএনপি অহেতুক বিভ্রান্তির ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।


শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে তার বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভিআইপিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে একটি মহল প্রচারণা চালাচ্ছে। ভিআইপিদের জন্য আলাদা হাসপাতাল তৈরির বিষয়টি স্রেফ গুজব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের কোনো প্রস্তাবে সমর্থন দেননি।’

তিনি বলেন, ‘রোগীকে রোগী হিসেবেই দেখব। এখানে ধনী-দরিদ্রের কোনো বিষয় নেই, বিত্তবান, বিত্তহীনের কোনো বিষয় নেই। কারণ করোনা দলমত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেবে এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ কেউ করোনা প্রতিরোধে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের জন্য সরকারকে আহ্বান করেছেন। কিন্তু সারা দুনিয়ায় করোনা প্রতিরোধে কোথাও টাস্কফোর্স দলীয়ভাবে বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গড়ে তোলার কোনো নজির কোথাও নেই। এ সময়ে সর্তক থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করা দায়িত্বশীলতার পরিচয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রত্যেক দলেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রয়োজন রয়েছে।’
কাদের বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা যে কেউ যদি ভালো পরামর্শ দেয়, তাহলে অবশ্যই সে ভালো পরামর্শ সরকার সানন্দে গ্রহণ করবে। করোনা প্রতিরোধে জাতীয় টাস্কফোর্স বা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার নামে বিএনপি অহেতুক বিভ্রান্তির ভাইরাস ছড়াচ্ছে।
অদৃশ্য শত্রুদের মোকাবিলার জন্য যার যা দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালন করা উচিত। তাই প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।
করোনার অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে: জননিরাপত্তা সচিব

করোনার অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে: জননিরাপত্তা সচিব

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেছেন, মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে যে, করোনায় আক্রান্ত হলেই বোধহয় মানুষ মারা যাবে, এই ধারণা সঠিক নয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে।


বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বেশকিছু সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে সচিব এ সব কথা বলেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীতে ‘করোনা প্রতিরোধবান্ধব’ কাঁচাবাজার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। এ সময় সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকও উপস্থিত ছিলেন।
সচিব বলেন, ‘কিছু সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেও পুলিশ বাহিনীতে কোনো সংকট হবে না।’

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর ২১৮ জন সদস্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে কনস্টেবলের সংখ্যা বেশি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পর্যন্ত কর্মকর্তাও আছেন।
এত সদস্য করোনা আক্রান্তের কারণে পুলিশ বাহিনী জনবলের ঘাটতিতে পড়বে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমাদের এক লাখ ১২ হাজার পুলিশ আছে। আক্রান্ত হয়েছে মাত্র তিনশ’র মতো। জনবলের কোনো ঘাটতি হবে না। পুলিশের মধ্যে কোনো সংকটও হবে না। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আমাদের যেসব সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, সবাই সুস্থ হয়ে ফেরত আসবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
‘মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত আমাদের পুলিশ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ সবাই মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস পরবেন। স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। বারবার হাত ধোবেন। নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে দায়িত্ব পালন করবেন। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবেন’ বলেন সচিব
কোন হাসপাতালে কত পিপিই, তালিকা প্রকাশের আহ্বান আর্টিকেল ১৯ এর

কোন হাসপাতালে কত পিপিই, তালিকা প্রকাশের আহ্বান আর্টিকেল ১৯ এর

করোনা রোগীদের চিকিৎসার শুরু থেকে চিকিৎসকসহ প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে কোন প্রতিষ্ঠানে কতসংখ্যক পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে সেই তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯।


শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, করোনার মতো বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সম্মুখ সারিতে আছেন চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশয়ানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। করোনার সংক্রমণ এড়িয়ে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক সুরক্ষা উপকরণ তথা পিপিই অত্যাবশ্যক। তাই পিপিই বিতরণের ক্ষেত্রে এর যথাযথ মান ও বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর্টিকেল ১৯ এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, “করোনা মোকাবিলা সম্পর্কিত কর্ম পরিকল্পনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ’যে সব স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি নিজেরা ও আপনজন হচ্ছেন, সে সম্পর্কে জানার এবং বোঝার অধিকার মানুষের রয়েছে। শুধু তাই নয়, ঝুঁকি মোকাবিলার এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকারও তার রয়েছে।’ অর্থাৎ করোনা মোকাবিলার অংশ হিসেবে কোথায় কী পরিমাণ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে তা স্বাস্থ্যকর্মী তথা দেশের সাধারণ মানুষ জানতে চাইতেই পারেন। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, তথ্যের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং সঠিক তথ্যের প্রয়োজনও এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি। করোনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাস্থ্য সেবা যেমন ব্যহত হবে তেমনি সঠিক তথ্যের অভাবে ভুল তথ্য এবং ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে।"
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদফতর ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ১০ লাখেরও বেশি পিপিই বিতরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। অধিদফতরের তথ্য মতে, সারাদেশে সরকারি চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আছেন ৮২ হাজার ৫১ জন। এ হিসেবে একজনের গড়ে ১২টি পিপিই পাওয়ার কথা।
আর্টিকেল ১৯ লক্ষ্য করেছে, এই বিপুল পরিমাণ পিপিই বিতরণের সরকারি তথ্যের বিপরীতে দেশজুড়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, কোনো পিপিই তারা পাননি। যারা পেয়েছেন, তারাও পিপিইর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মানসম্মত মাস্ক ও পিপিই সরবরাহ না পাওয়া নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ১৮ এপ্রিল নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক আবু তাহেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আবু তাহের ১৬ এপ্রিল তার স্ট্যাটাসে লেখেন, এখন পর্যন্ত আমিসহ আমার ডিপার্টমেন্ট এর কেউ ১টিও n95/kn95/ffp2 মাস্ক পাইনি। তাহলে স্বাস্থ্য সচিব মিথ্যাচার কেন করলেন উনি n95 ইকোয়িভেলেন্ট মাস্ক দিচ্ছেন? গত একমাসে আমার ডিপার্টমেন্টে ৮ জনের জন্য ২টি পিপিই দেওয়া হয়েছে। এই হলো পর্যাপ্ত পিপিই মজুদ।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক-নার্সরা শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ও মান সম্মত সুরক্ষ উপকরণ এবং উপযুক্ত কর্মপরিবেশ না থাকার কথা জানিয়েছেন, যা গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে ১৫ এপ্রিল একটি নোটিশ জারি করে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর।
ফারুখ ফয়সল বলেন, ’স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন যৌক্তিক উদ্বেগ প্রশমনের পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি স্পষ্টতই মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকাররে লঙ্ঘন। তাছাড়া এর প্রতিক্রিয়া করোনা ব্যবস্থাপনার সঙ্কটকে আরো নাজুক করবে। কারণ, সুরক্ষা উপকরণ ও সেবাদানের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকলে চিকিৎসকরা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন, তেমনি অসুরক্ষিত অবস্থায় বহু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসকরাও অন্য রোগীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন।’
ফারুখ ফয়সল মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার সমুন্নত রাখার স্বার্থে চিকিৎসক আবু তাহেরকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের জারি করা নোটিশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।